দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ কোরিয়া (জিএএস কে)-এর আয়োজনে কোরিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় বিদেশী অধ্যুষিত আনসান শহরের অঙ্গোগ দোংয়ে অবস্থিত বিদেশী আবাসিক সহায়তা কেন্দ্রের প্রধান হলে বাংলাদেশী ইপিএস সদস্য সংখ্যা বর্ধনের উপায় সন্ধানে এক বিশেষ প্যানেল (সেমিনার) অনুষ্ঠিত হয়। কোরিয়ার বাদল দিনের মূষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে দূর দুরান্ত থেকে বাংলাদেশী ইপিএস কর্মী, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, সমাজসেবীসহ বিভিন্ন পেশার শত শত লোক উপস্থিত হয়ে বাংলাদশী কর্মী যাতে আরো বেশী আসতে পারে সে বিষয়ে মতবিনিময় করেন।








সেমিনারে প্রধান অতিথি ও আলোচক ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় (সিউলে) বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। বিশেষ আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাস এর প্রথম সচিব (শ্রম) মকিমা বেগম। প্রথমেই গোপালগঞ্জ আ্যসোসিয়েশন অফ সাউথ কোরিয়া (জিএএসকে) এর সাধারণ সম্পাদক ও এই আয়োজনের সমন্বয়কারী ডেভিড ইকরাম তার সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন মহতী ও প্রয়োজনীয় একটা বিষয়ের উপর প্যানেল ডিসকাশনের কারণ উল্লেখসহ সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন।

প্রথম পর্বে প্যানেল ডিসকাশনের (সেমিনার) মূল বক্তব্য প্রদান করেন গোপালগঞ্জ আ্যসোসিয়েশন অফ সাউথ কোরিয়া’র সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন। তিনি দ্বিতীয় পর্বে প্যানেল ডিসকাশনের মডারেটর হিসেবেও পুরো আলোচনার পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ আব্দুল মতিন, রফিকুল ইসলাম ভুট্টো, মুন্সী রফিকুল ইসলামসহ সাবেক সিনিয়র ইপিএস সদস্য রবিউল ইসলাম, রকিব মৃধা, ডালিম, শেখ রিপন এবং বর্তমানে ইপিএস কর্মী হিসেবে কর্মরত শেখ অমর, আমিনুল মোগল এবং ইসরাত জাহান এমা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী গবেষক ড. নাজমুল হুদা। 








বাংলাদেশী ইপিএস নারী সদস্য ইশরাত জাহান এমা বলেন, কোরিয়ান কালচারের সাথে বাংগালী মেয়েদের খাপ খাওয়াতে কষ্ট হয়। বাংলাদেশী মহিলা কর্মীরা যদি নিজের কালচার নিজেরা রেখে কোরিয়ান কালচারের সাথে মিনিমাইস করতে পারে তবে কোরিয়াতে বাংলাদেশী মহিলা কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে। বাংলাদেশ দুতাবাসের লেবার উইং কর্মকর্তা শেখ নিজামূল হক বলেন, মামলা মকদ্দমার কারণে কোরিয়ান মালিকেরা অনেক সময় খুব ঝামেলায় পড়ে যান, কোরিয়ান মালিকেরা সব সময় খুব ব্যস্ত থাকেন। থানা পুলিশ করার সময় তাদের থাকে না। অনেকে নিজেদের কালচার প্রতিষ্ঠা করতে বা ডরমিটরিতে রান্না করার ব্যবস্থা না থাকলেও রান্না করতে চায় যেটা কোরিয়ান মালিকদের জন্য একটা বাড়তি বার্ডেন হয়ে দাড়ায়।

বিশেষ অতিথি মকিমা বেগম প্রথম সচিব (শ্রম) বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীদের কর্ম দক্ষতাসহ বিভিন্ন গুনাগুনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা যদি আরো একটু পরিচ্ছন্নতা রাখেন, চুক্তির মেয়াদপূর্ণ করে, তুচ্ছ বিষয়ে একে অপরের অভিযোগ তথা মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রম মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ না করে তবে কোরিয়ান মালিকদের সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।

প্রধান অতিথি রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম জিএএসকে সময় উপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল ডিসকাশনের আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকের আলোচনায় যে সমস্যাগুলো উঠে এসেছে তা যদি আমরা পরিহার করতে না পারি, শুধরাতে না পারি তবে ইপিএস পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত অন্য পনেরোটা দেশের সাথে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বো। কোরিয়ান কোম্পানী কিন্তু খালি থাকবে না, অন্যদেশের কর্মী এসে সেখানে ভরে যাবে। অতিরিক্ত প্রত্যাশা না করে, যে কোম্পানীতে প্রথম এসেছেন সেটাতে যদি পুরো সময় থাকেন তাতেই বেশী লাভবান হবেন এবং বাংলাদেশে রেমিটেন্স বেশী যাবে। বাংলাদেশী সকল ইপিএস কর্মীকে তাদের মালিকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।








অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে ছিল কোরিয়ার নামকরা মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি জি-মানি ট্রান্স। ইয়াসিন, সামাদ, সজল, নাসিম, শামীম রুবেল চৌধুরী, রকিব, রুবেল খন্দকার, রিপন, রাসেল, জিহাদ, শাওন ও আরেফিন পরিবেশনায় দর্শকরা বাংলাদেশী সুস্বাদু দুপুরের খাবার উপভোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করেন।